![]() |
| ছবি: মশিউর রহমান আকঞ্জী শ্যামল |
ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি কি সত্যিই সমাজে ধার্মিক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির নির্দেশক? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য এক বাস্তবতা?
আজকাল চারপাশে তাকালে মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা যেকোনো উপাসনালয়ের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে দেখা যায়। অনেকে এটাকে সমাজে ধর্মপ্রাণ মানুষের আধিক্য মনে করে স্বস্তি পান। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে সত্যটা কিন্তু অন্যরকম।
উপাসনালয়ের ইট-পাথর বৃদ্ধি পাওয়া মানেই সমাজে সৎ ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ বাড়ছে—কথাটা মোটেই সত্য নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটা আমাদের মানবিক পতন ও নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই স্পষ্টভাবে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
কারণটা খুব সহজ:
* পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের মূল কথাই হলো—পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, আত্মত্যাগ, এবং দল-মত নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বাস করা।
* আমাদের ভেতরের এই সহনশীলতা আর মানবিক চরিত্র যত বিলুপ্ত হচ্ছে, আমরা তত বেশি বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান আর প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের পাপ বা অপরাধবোধ ঢাকার চেষ্টা করছি।
যদি উপাসনালয় বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ভেতরের হিংসা, বিদ্বেষ, দুর্নীতি আর পরশ্রীকাতরতা না কমে, তবে বুঝে নিতে হবে ধর্মের 'আত্মা' হারিয়ে গেছে, রয়ে গেছে কেবল 'কাঠামো'।
মানুষের উপাসনা কেবল চার দেয়ালের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি নিজের চরিত্র, সততা আর মানবিকতায় প্রকাশ না পায়, তবে হাজারটা নতুন উপাসনালয় গড়ে তুললেও সমাজ হিসেবে আমাদের পতন ঠেকানো সম্ভব নয়।
আসুন, ধর্মকে কেবল বাহ্যিক প্রদর্শনীতে আটকে না রেখে, নিজেদের ভেতরের মানবিকতা আর নৈতিকতাকে জাগ্রত করি। তবেই একটি সুন্দর ও সহনশীল সমাজ গড়ে উঠবে।

0 Comments