সময়২৪ লাইট
::
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে গঠিত ব্যতিক্রমী
প্রতিষ্ঠান জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াস জাভেদ রাজ সাহেবের প্রতিষ্ঠিত আল-আমিন ইসলামি মডেল মাদ্রাসা এক
অভাবনীয় সাফল্যের ইতিহাস গড়ল। প্রতিষ্ঠার মাত্র ১১ মাস ৩ দিনের মাথায় এই মাদ্রাসা
থেকে মাত্র ৫ মাস ৩ দিনে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে এক শিক্ষার্থী বিস্ময়
সৃষ্টি করেছে, যা পুরো উপজেলায় প্রথম ও বিরল এক অর্জন। আজ পবিত্র রমজানের ২৭তম
দিবসে মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে এই
সাফল্য উদযাপন করা হয়।
শাল্লা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার সংলগ্ন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত
এই অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিল হিফজ বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর কুরআনের শেষ সবক
সম্পন্ন করা। এর মধ্যে গত বছরের ১৪ এপ্রিল হিফজ শুরু করে মাত্র ৫ মাস ৩ দিনে
কুরআনের হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করে এক খুদে শিক্ষার্থী। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা
সভাপতি জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াস জাভেদ রাজ সাহেবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই
মাহফিলে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার ও ওলামায়ে কেরামগণের
হাত থেকে শিক্ষার্থীদের এই অনন্য কৃতিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে
উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক,
মসজিদের ইমাম, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ
মুসল্লিরা এই আনন্দঘন মুহূর্তে শরিক হন।
জামেয়া মুস্তাফিয়া মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম মোয়াজ্জম আল হুসোইন তরি
বক্তব্যে জানান, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এক বছর
পূর্ণ হওয়ার আগেই ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ইতিপূর্বে হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিযোগিতায় এই মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়ে জেলা
অডিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া জাতীয় বোর্ড পরীক্ষায় দুইজন শিক্ষার্থী
'মুনতাজ' বা এ+ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, যা পুরো উপজেলার জন্য এক গৌরবের বিষয়। এবার
রমজানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শাল্লা সরকারি ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদে সফলভাবে
তারাবিহ নামাজ পড়িয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে।
কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের
হাতে বিশেষ পুরস্কার ও হাদিয়া তুলে দেওয়া হয়। পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং
মুর্দেগানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি
ঘটে। আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার এমন সমন্বয় এবং অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় অভিভাবক ও
সুধীমহলে আল-আমিন ইসলামি মডেল মাদ্রাসা ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
0 Comments